কোরবানির চামড়া নিয়ে অরাজকতা চলবে না: মেয়র শাহাদাত

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাত হোসেন।

রোববার (১৭ মে) টাইগার পাসে অস্থায়ী নগর ভবনে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না। কোরবানির সময় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঈদুল আজহা সামনে রেখে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

মেয়র বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।

মেয়র আরও বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যে কোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে কয়েক বছর নগরীতে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে চামড়া ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মেয়র শাহাদাত হোসেন আড়তদারদের বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আপনারা সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিন। এতে পরিবেশও রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে। আমরা চাই ঈদুল আজহার সময় নগরে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হোক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই দায়িত্বশীল হলে কোরবানিদাতারাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।

সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্যানারি মালিকের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ করার এবং কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যাতে সক্ষমতার বাইরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চান।

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুদ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়।

লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পশুর হাটগুলোতে ভেটেরিনারি ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যে প্রচার চালানোর জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।

সন্নিহিত জেলা ও উপজেলা থেকে ঈদের দিন ও পরবর্তী ২ দিন যাতে মহানগরীতে কোরবানির পশুর চামড়া প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য চেকপোস্ট বসাতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে অনুরোধ করা হয়।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহ সভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, উপদেষ্টা মোরশেদুল আলম সহ চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় বক্তব্য দেন।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top