এনসিটি-সিসিটি ইজারা না দেওয়ার দাবিতে মশাল মিছিল

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটি মশাল মিছিল করেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় চেরাগির মোড় থেকে লালদীঘির পাড় পর্যন্ত মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে চেরাগির মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।

বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মো. আব্দুল বাতেন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, বন্দর মার্চেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা নূর হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত প্রতিষ্ঠান। এই বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বা অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরের আধুনিকায়নের নামে জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ধারাবাহিক প্রতিবাদ, সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান থাকলেও সরকার জনগণের এই উদ্বেগকে আমলে নিচ্ছে না।

তারা বলেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত ইজারা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও করেছিল, কিন্তু জনগণের প্রবল বিরোধিতার মুখে তা সফল হয়নি। তাদের প্রত্যাশা ছিল, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকারও পূর্ববর্তী সরকারগুলোর পথ অনুসরণ করছে। সরকার ইজারার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি ‘সাপোর্ট টিম’ গঠন করেছে, যা জনমতের প্রতি অবজ্ঞারই বহিঃপ্রকাশ।

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কিছু মন্ত্রী ও আমলা মিলে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যদি কোনো ইজারা চুক্তি সম্পাদন করা হয়, তবে দেশের দেশপ্রেমিক জনগণ সেই চুক্তি কখনোই মেনে নেবে না। এ ধরনের চুক্তি জনগণের কাছে বৈধতা পাবে না; বরং ইতিহাসে তা দেশের স্বার্থবিরোধী ও একটি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

বক্তারা অবিলম্বে এনসিটি, সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধ করার দাবি জানান এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁরা ঘোষণা করেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে।

সমাবেশে বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ২ আগস্ট সকাল ১১টায় আগ্রাবাদ বাদামতলীর মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বন্দর ও দেশের স্বার্থ রক্ষার এই আন্দোলন সফল করতে সর্বস্তরের শ্রমিক, পেশাজীবী, ছাত্র, যুবসমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top