চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে। কীভাবে সবচেয়ে উত্তম উপায়ে এটি কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে এখন বিস্তারিত কাজ চলছে।
এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন এই পে স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি তিন বছরে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অর্থাৎ আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন বেতন কাঠামোর অধীন বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে (২০২৭-২৮ অর্থবছর) মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। সব শেষ বা তৃতীয় ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।
নতুন প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোতে বর্তমানে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডের কাঠামোটিই বহাল থাকছে। তবে এতে বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সার্বিকভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন গ্রেড ভেদে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সরকারের ৩ ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা মতবিভক্তি দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ সরকারের এই পর্যায়ক্রমিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও আরেকটি অংশ ভিন্ন দাবি তুলছে।
তাদের মতে, পে স্কেল ভেঙে ভেঙে বাস্তবায়ন না করে পুরোটাই এক ধাপে বাস্তবায়নের গেজেট প্রকাশ করতে হবে। কর্মচারীদের একাংশের দাবি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম একবারে বেড়ে যাবে, যার ফলে সুবিধার চেয়ে সরকারি চাকুরেরা অসুবিধায় পড়বেন বেশি।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভা বিভাগ অবশ্য জানিয়েছে, সরকারি কোষাগারের ওপর যেন হঠাৎ বড় ধরনের চাপ না পড়ে এবং বাজার পরিস্থিতি যেন স্থিতিশীল থাকে, সে কথা বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতিও চলছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





