মোহাম্মদ ইব্রাহিম মোস্তফা: কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে একটি মাদ্রাসার ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলের দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-ব্লক এ-৫ এলাকায় এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নাজমা (১৩), উম্মে সালমা (১২), উমাইসা বিবি (১৩) ও শাহিদা (৮)। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতরা সবাই খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কতজন মাটির নিচে আটকা পড়ে আছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।’
ক্যাম্পের হেড মাঝি আব্দুল হামিদ জানান, গত সোমবার সকাল থেকে এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যেই ক্যাম্প-৫ এর একটি সাব-ব্লকে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একটি মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় রোহিঙ্গারা উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, পাহাড়ধসের খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উদ্ধার অভিযান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, টানা বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। এর আগে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যু হয়। সোমবার (৬ জুলাই) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটজন এবং কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গাসহ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






