স্পোর্টস ডেস্ক: কয়েক মাস আগে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকার সেরা আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল বহুল আলোচিত ‘ফিনালিসিমা’। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেই ম্যাচ আর মাঠে গড়ায়নি। ভাগ্যের পরিহাসে, সেই দুই ফুটবল পরাশক্তিই এবার মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।
রবিবার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ১০৪তম ও শেষ ম্যাচে শিরোপার জন্য লড়বে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকবে এই মহারণের দিকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দলের এটি মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৬৬ সালের আসরে একমাত্র মোকাবেলায় ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ছয় দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল, তবে এবার লক্ষ্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট।
৪৮ দলের নতুন কাঠামোর এই বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছাতে উভয় দলকেই খেলতে হয়েছে সাতটি ম্যাচ। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত শতভাগ সাফল্য ধরে রেখে টানা সাত জয় নিয়ে ফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে স্পেন ছয়টি জয় ও একটি ড্র নিয়ে অপরাজিত অবস্থায় শেষ ম্যাচে পৌঁছেছে।
ফাইনালে জয় পেলে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা একাধিক রেকর্ড নিজেদের করে নেবে। টানা আট জয়ে বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ার পাশাপাশি এক আসরে শতভাগ জয়ের তালিকায় স্থান করে নেবে আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও পূরণ হবে তাদের।
আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারানোর পর নকআউটে কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে তারা ফাইনালে ওঠে। বিশেষ করে শেষ তিন ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেওয়া দলটির মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ।
অন্যদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় নজর কেড়েছে। সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে তারা ফাইনালে উঠেছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে গোলবঞ্চিত রাখতে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কম গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নতুন নজির গড়তে পারে স্প্যানিশরা।
গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউটে ওঠে স্পেন। এরপর অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পরাজিত করে তারা ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে।
ফাইনাল ম্যাচটি তাই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, এটি দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও সংঘর্ষ। একদিকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত আক্রমণভাগ, প্রত্যাবর্তনের মানসিকতা ও জয়ের ক্ষুধা; অন্যদিকে স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, বল দখলের কৌশল ও পরিকল্পিত ফুটবল।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার পরই নির্ধারিত হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম। পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হবে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





