আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
অন্যদিকে, ইরানের দাবি, তারা কুয়েত, জর্ডন ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাহরাইনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং কুয়েতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সামরিক বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভান্ডার এবং সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে জাস্ক এলাকার কাছে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বান্দার আব্বাস-রুদান সড়কের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রদেশটির উপ-গভর্নর জানিয়েছেন, শনিবার ভোরের হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বুশেহরের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে তারা উত্তর ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন জাহাজকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করারও দাবি করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্ডনের মুয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে এবং দেশজুড়ে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দ ড্রোন প্রতিরোধের ফল। একই সঙ্গে জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রণালীটির পর্যবেক্ষণাধীন অংশ দিয়ে মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগের দিন সেখানে ১৫টি জাহাজ চলাচল করেছিল।
এর মধ্যে আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে মাইন পাতা একটি পথে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম বলেছে, আইআরজিসির এ দাবি মিথ্যা।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





