বান্দরবান প্রতিনিধি: অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান জেলা শহরসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল এবং নাইক্ষ্যংছড়ি, রোয়াংছড়ি, লামা ও আলীকদম উপজেলায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বন্যাকবলিত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার থেকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলা শহরের শেরেবাংলা নগর, আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, উজানীপাড়া ও মধ্যমপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে। জেলার সাতটি উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
অবিরাম বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে রুমা-থানচি, লামা-সূয়ালক সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে ছোট-বড় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৩৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে মোট ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী—এই তিনটি নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরবর্তী এবং পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন





