বোয়ালখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা, ধোরলা ও করলডেঙ্গা গ্রামের পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব বেড়েই চলেছে। খাবারের সন্ধানে প্রায় প্রতি রাতেই লোকালয়ে নেমে আসছে হাতির পাল। এতে চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থায়ী সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে জ্যৈষ্ঠপুরা ফতেয়ারখীল এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বসতবাড়িতে হানা দেয় দুটি বন্যহাতি। এ সময় হাতিগুলো বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলে, কয়েকটি গাছ উপড়ে দেয় এবং সবজিক্ষেত নষ্ট করে। এতে প্রায় অর্ধলাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গভীর রাতে দুটি হাতি এসে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেছে। গাছপালা ও সবজিক্ষেতও নষ্ট করেছে। এতে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, গত বৃহস্পতিবার ভোরে জ্যৈষ্ঠপুরা গ্রামের আবু সুফিয়ানের বাড়িতে ঢুকে গাছের পাকা কাঁঠাল খেয়ে যায় বন্যহাতির একটি দল। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় হাতি তাড়ানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে মশাল দেখিয়ে হাতি তাড়ানো গেলেও এখন তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না। চিৎকার-চেঁচামেচি বা হৈ-হুল্লোড় করেও হাতিকে প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই দ্রুত প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
ইলিফ্যান্ট রেসকিউ টিমের সদস্য আবু সুফিয়ান জানান, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় হাতির পাল লোকালয়ে চলে আসছে। তারা বসতবাড়ির আঙিনায় ঢুকে পাকা কাঁঠাল, ধানসহ বিভিন্ন খাদ্য খেয়ে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তার বাড়ির আঙিনায় এসে গাছের কাঁঠাল খেয়ে যায় বন্যহাতির একটি দল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, লোকালয়ে হাতির পাল ঢোকার খবর পেলেই ফায়ার সার্ভিসের দল পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতিগুলোকে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বন বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
চাটগাঁ নিউজ/ইয়াসিন/এমকেএন






