অপহরণের পর নির্যাতন, ৪ দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে নুরুল ইসলাম (৪০) নামে এক দিনমজুরকে অপহরণের পর নির্মমভাবে মারধরের ঘটনায় চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মত্যু হয়।

নিহত নুরুল ইসলাম সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা উলা বাড়ির উলা মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি খাসজমিতে বসবাস করে আসছিলেন নুরুল ইসলাম। ওই জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে এর আগেও কয়েকবার তিনি মারধরের শিকার হন। ঘটনার দুই দিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বসতভিটা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সাতকানিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

নিহত নুরুল ইসলামের মামা মোহাম্মদ আনিস জানান, গত বুধবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাজালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে নুরুল ইসলামকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করা হয়। এ সময় তিনি তার মাকে ফোন করে বলেন, “মা, আমাকে মেরে ফেলতেছে।” এরপর হঠাৎ করেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক ব্রিজের নিচে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে পাওয়া যায়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। পরে তাকে প্রথমে বান্দরবান সদর হাসপাতালে এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় তাকে নগরীর বেসরকারি চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে নুরুল ইসলাম মারা যান।

এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রকিব আলী বলেন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ব্যান্ডেজ করা আছে। তবে কীভাবে বা কী দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top