দিল্লির রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন: বাংলাদেশিসহ নিহত ২১
আহত ৫ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগর এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ৪০ জনকে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে দক্ষিণ দিল্লির ব্যস্ত মালব্য নগরে অবস্থিত ‘লেমন গ্রিন’ রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দক্ষিণ দিল্লির ডিসিপি অনন্ত মিত্তালের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

জানা গেছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে আগুনে নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিও আছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই। যদিও তাদের পরিচয় এখনো জানানো হয়নি।

আর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফায়েড অফিশিয়াল ফেসবুক পাতায় এক পোস্টে বলা হয়েছে, আহতদের মাঝে তিন জন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ও বাকি দুইজন সফদারজাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিএনবি) প্রকল্পের আওতায় মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। তবে অনুমোদনের বাইরে গিয়ে সেখানে প্রায় ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top