আনোয়ারা প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দু’দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো বিভিন্ন পক্ষ থেকে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
মামলার আসামিরা এখনও অধরা থাকায় এবং হুমকি ও সমঝোতার চাপের কারণে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আবু তাহেরের দোকানে ২০১৬ সাল থেকেই অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত। রাতে সেখানে অপরিচিত নারীদের আনা হতো। দোকানের ভেতরে আবু তাহেরের একটি অন্দরমহলও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা এনামুল হক বলেন, সমাজে এসব অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ধর্ষণের ঘটনা বাড়তেই থাকবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
কিশোরীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সোলেমান আলকাদেরী বলেন, একটি শিশুর জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিস্ময়কর।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, মামলা করার পর থেকে আসামিপক্ষের লোকজন আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়ে এতিম, আমাদের দেখার কেউ নেই। আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা বিভিন্ন লোক পাঠিয়ে সামাজিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমি আমার মেয়ের জীবন ধ্বংসকারীদের ফাঁসি চাই। আমি সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মামলার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। মোবাইল ট্র্যাকিংসহ নানা উপায়ে তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই কিশোরী তার খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা গ্রামে জোরপূর্বক একটি ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। পরে পাশের বিলে নিয়ে আরও তিন যুবক তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত দোকানি আবু তাহের (৪২), তার সহকর্মী রবিউল হোসেন (২৪), মো. ফারুক (২৩) ও আনোয়ার হোসেন (২২)-এর বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন





