কাপ্তাইয়ের কোরবানির হাটে ক্রেতার ভিড়, পাহাড়ি গরুর দামে সন্তুষ্টি

কাপ্তাই প্রতিনিধি: রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার নতুনবাজার সংলগ্ন আনন্দ মেলা মাঠে কোরবানির পশুর একমাত্র হাট শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাপকভাবে জমে উঠেছে।

গত রবিবার (২৪ মে) দুপুরের পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে হাট এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা থেকে গরু কিনতে আসা মো. ইসমাইল ও আবু তালেব জানান, তারা প্রতিবছরই এই হাটে আসেন কোরবানির জন্য পাহাড়ি গরু কিনতে। তাদের মতে, পাহাড়ি গরু প্রাকৃতিক খাবার খায়, কম চর্বিযুক্ত ও তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যবান হওয়ায় এগুলোর চাহিদা বেশি। পাশাপাশি দামও তুলনামূলকভাবে সহনীয়।

একইভাবে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা থেকে আসা আবদুল মান্নান ও তৌফিক ইসলাম জানান, তারা পাহাড়ি গরুই পছন্দ করেন। তাদের দাবি, এসব গরু সাধারণত কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা হয় না এবং তুলনামূলকভাবে কম অসুস্থ হয়, তাই ক্রেতাদের কাছে এগুলোর জনপ্রিয়তা বেশি।

হাট সূত্রে জানা যায়, কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই হাটটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বসে থাকলেও গত রবিবার থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতিতে এটি জমজমাট রূপ নেয়। এই হাটে বিক্রির জন্য রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদুসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে গরু আনা হয়েছে। কাপ্তাই লেক হয়ে ইঞ্জিনচালিত বোটে এসব গরু পরিবহন করা হয়।

গরু ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় পাহাড় থেকে গরু আনা এখন বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বাজারে জিনিসপত্র ও খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় এবার গরুর দামও কিছুটা বেশি।

অন্যদিকে খামার থেকে গরু বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, তারা কয়েকজন মিলে খামার করেছেন এবং এবার সেই গরুগুলো হাটে তুলেছেন। প্রতিটি গরু দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তারা জানান। তারা স্বল্প লাভেই বিক্রি করছেন বলে দাবি করেন।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কাপ্তাই নতুনবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির এডহক কমিটির সভাপতি লোকমান আহমেদ বলেন, এই হাটটি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। এখানে প্রচুর পাহাড়ি গরু আসে এবং তুলনামূলকভাবে দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকে।

কাপ্তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. এনামুল হক হাজারী জানান, হাটে পশুদের চিকিৎসা সেবা দিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি টিম রবিবার থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তিনি আরও জানান, এবার কাপ্তাই উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৬ হাজার ২০০টি, যেখানে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৭টি পশু।

চাটগাঁ নিউজ/ঝুলন/এমকেএন

Scroll to Top