চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায় বলে জানিয়েছে র্যাব। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা ১১ ঘণ্টার যৌথ অভিযানের পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।
র্যাব জানায়, রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায় প্রায় ৩০০ সন্ত্রাসী। হামলাকারীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। একই সঙ্গে সঙ্গে আনা বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়।
হামলাটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা যেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সেজন্য সন্ত্রাসীরা অন্তত চারটি স্থানে রাস্তা ও কালভার্ট কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এতে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের অনেক দূরে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়।
ক্যাম্পে দায়িত্বরত প্রায় ১৫০ জন র্যাব ও পুলিশ সদস্য শুরুতেই সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা ফাঁকা গুলিও ছোড়েন। পরে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে যৌথ বাহিনী বড় ধরনের অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানের মুখে একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। এরপর পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকা যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।
র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসী ‘ইয়াসিন বাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলায় র্যাব ক্যাম্পের অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য গুরুতর আহত হননি।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সরকার অভিযান পরিচালনা করে। সে সময় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের সমন্বয়ে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। এরপর থেকেই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের একটি স্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই কার্যক্রম ব্যাহত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





