ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই (রাঙামাটি) : আর মাত্র কয়েকদিন পর কোরবানির ঈদ। এসময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে কাপ্তাইয়ের কামারদের। সেই সকাল থেকে রাত অবধি চলে উত্তপ্ত লোহাকে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপদানের কাজ। সারা বছর ধরে প্রায় ঢিলেঢালাভাবে চলা কামারপল্লীগুলো কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে এলেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
রবিবার (২৪ মে) সরেজমিন কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের রাইখালী বাজারে কামারের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কামার ভীষণ ব্যস্ত। টুংটাং শব্দে মুখর পুরো এলাকা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তৈরি করা হচ্ছে- দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও রামদা। মাংস কাটার এসব সরঞ্জামের বেচা-বিক্রিও বেশ জমজমাট।
কথা হয় রাইখালী বাজারের কামারশিল্পী স্বপন কর্মকার ও কৃষ্ণ কর্মকারের সাথে। তারা দুই ভাইয়ের পাশাপাশি দুটি দোকান। তারা বলেন, সারা বছর কাজ কম থাকলেও কোরবানের ঈদ আসলেই কিছু টাকা আয় করতে পারি। পূর্ব পুরুষের এই পেশাকে আমরা ধরে রেখেছি। কোরবান আসলে কেউ দা, বটি, ছুরি, ধামাতে সান দেয়, আবার কেউ নতুন কিনে নেয়। কোরবানের এক সপ্তাহ আগে থেকে আমাদের ব্যস্ততা বাড়ে।
তারা আরও বলেন, প্রতিটি দা সান দেওয়ার জন্য ১০০ টাকা, বড় বটি ৮০ টাকা হতে ১০০ টাকা এবং ছুরি সান দিলে ৫০ টাকা নিই। এছাড়া নতুন দা কিনলে ৫০০ টাকা হতে ৮০০ টাকা, বটি ২০০ টাকা হতে ১০০০ টাকা এবং ছুরি ১৫০ টাকা হতে ২৫০ টাকা নিই।
এসময় দোকানে দা, বটি কিনতে আসা রাইখালীর লেমুছড়ির মো. সেলিম ও পূর্ব কোদালার আবুল কাসেম বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু জবাই এবং জবাই পরবর্তী কাজ সারানোর জন্য আমরা কামারের দোকানে দা, বটি সান দিতে এসেছি।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





