চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী মো. নাছির হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম পরিচয় জানানো হয়নি।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল।
এর আগে নিহত নাছিরের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা ছিল বলে জানিয়েছিলেন রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, রাউজানের কিছু হত্যকাণ্ড আধিপত্য বিস্তার নিয়ে, আর কিছু বালুর মহাল নিয়ে। তবে অপরাধ যে কারণেই হোক না কেন, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের ধারণা গ্রেপ্তার তিনজন নাসির হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত। তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পেতে পারি।
এর আগে গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈশান ভট্টের হাট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন নাছির। তিনি ওই এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে।
পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।
নিহতের মেয়ে লাভলী আক্তার বলেন, গত বছরের ৩১ জানুয়ারি তার বাবাকে মারধর করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি চট্টগ্রাম শহরের বাসায় অবস্থান করছিলেন। গত দুই মাস ধরে বাড়িতে যেতেন এবং চাচার বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা শহরেই থাকেন।
তিনি জানান, জানে আলম ও জাফর মোহাম্মদরা তার বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী হিসেবে সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও নানা বিরোধকে কেন্দ্র করে ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক বিরোধ জড়িত বলে জানা গেছে। একই সময়ে এলাকায় শতাধিকবার গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ, যা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





