রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলাতে হঠাৎ আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছে, বহু স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিপর্যয়। অনেকের বসতঘরের ওপর ভেঙে পড়েছে বিশালাকৃতির গাছ। পাশাপাশি কৃষি জমিতে বোরো ধান ঢলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কৃষকরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় কাপ্তাই সড়কের সত্যপীর মাজার এলাকায় একটি বিশাল গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। আটকে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর গাছটি অপসারণ করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, চন্দ্রঘোনা আধুরপাড়া, পারুয়া ডিসি সড়কের কড়ার টেক, মরিয়মনগর ডিসি সড়ক, সরফভাটা ও শিলকসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর গাছ উপড়ে পড়ে। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গাছ সরিয়ে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে, কোথাও আবার উড়ে গেছে টিনের চাল ও ঘেরাবেড়া। কৃষি জমিতে পাকা বোরো ধান হেলে পড়ে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে বহু স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে এবং তার ছিঁড়ে যায়। ফলে মুহূর্তেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের এজিএম মো. কামরুল হাসান জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ২৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে, প্রায় ৩৫০ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং ৫৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আমাদের কারিগরি দল মাঠে কাজ করছে, তবে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে।
ঝড় থামার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই কুড়াল ও করাত নিয়ে সড়কের গাছ অপসারণে অংশ নেন।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু বকর বলেন, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমাদের দল কাপ্তাই সড়কের বিভিন্ন স্থানে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণে কাজ শুরু করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, সড়কে উপড়ে পড়া গাছ দ্রুত অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ চলছে।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন





