আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় ধুন্দল চাষ এখন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কৃষকদের পরিশ্রম, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় দিন দিন বাড়ছে এই সবজির চাষাবাদ। ফলে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন এলাকার অসংখ্য কৃষক।
চলতি মৌসুমে ফটিকছড়িতে প্রায় ২৪৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধুন্দল চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সুচনা, কিরণ, মমতা, দোয়ালানসহ প্রায় ১০টি জাতের চাষ বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ‘সুচনা’ জাতের ধুন্দল অধিক ফলনশীল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুম্বারপাড়া এলাকায় কৃষক পূর্ণচন্দ্র নাথ, বাবুল চন্দ্র নাথ, মোহাম্মদ খালেক, লোকমান ও হাসেম মিলে অন্তত ১৫ কানি জমিতে সুচনা জাতের ধুন্দল চাষ করেছেন। তারা জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি করতে পেরেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন দুই দলে ভাগ হয়ে তারা প্রায় ৩০০ কেজি পর্যন্ত ধুন্দল বাজারজাত করছেন।
কৃষকদের মতে, ধুন্দল চাষে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শ ও সার্বিক তত্ত্বাবধান তাদের সফলতার বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুম্বারপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বিদেশ না গিয়ে নিজ এলাকায় কৃষিকাজ করছি। বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখে এখন আমরা লাভবান হচ্ছি। সবাই এগিয়ে এলে এলাকার অনাবাদি জমিগুলোও চাষের আওতায় আসবে।
অন্যদিকে, প্রায় ৩০ বছর ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত কৃষক পূর্ণচন্দ্র নাথ জানান, গত ৫-৬ বছর ধরে ধুন্দল চাষ করছি। এ বছর চাষের পরিমাণ বাড়িয়েছি। ধুন্দল চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এখন এই চাষে আগ্রহী হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকেও আমরা সব ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর ধুন্দলের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের সঠিক গাইডলাইন প্রদান, উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশক সহায়তা দেওয়ার কারণে চাষাবাদ বাড়ছে। ফটিকছড়িতে এখনও অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে—তরুণরা এগিয়ে এলে কৃষি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
সব মিলিয়ে, ফটিকছড়িতে ধুন্দল চাষ শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়লে এই সম্ভাবনা আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





