চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর বসছে আগামী ২৫ এপ্রিল (শনিবার)। বলীখেলাকে ঘিরে বৈশাখী মেলা বসবে আগামীকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) থেকে। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে বলীখেলা অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
এদিকে, বলীখেলাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের লালদিঘী চত্বরে বলীখেলার প্রতিকৃতি সম্বলিত ম্যূরাল স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বুধবার (২২ এপ্রিল) এই ম্যূরালের উদ্বোধন করেন। এসময় জব্বারের বলিখেলার প্রবর্তক আব্দুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটিকে ‘জব্বার চত্বর’ নামকরণ করা হয়।
জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলীখেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আব্দুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।
তিনি জানান, আগামীকাল ২৫ এপ্রিল বলীখেলার মূল আসর হলেও ২৪ এপ্রিল থেকে মেলা বসবে। আগামী ২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা আছে। মাঠের পাশেই সরকারি মুসলিম হাই স্কুলে পরীক্ষার কেন্দ্র আছে। যার কারণে আগামী ২৬ এপ্রিল (রোববার) ভোরেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেলা উপলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি স্ট্যান্ডবাই রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আমরা এখানে এমন একটি ম্যুরাল নির্মাণ করেছি যা বলীখেলা, বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং আদালতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির চেতনাকে প্রতীকী হিসেবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের এ বলীখেলার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে এই ভাবনা থেকে এই ম্যুরালটি নির্মাণ করা হল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, আবদুল জব্বারের বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল, সদস্য খোরশেদ আনোয়ার বাবুল, আকতার আনোয়ার চঞ্চল, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সেলিম, আবদুল করিম, হারুন জামান, ইসমাইল বালি, এস এম আবদুল্লাহ আকতার, মো. বেলাল প্রমুখ।
চট্টগ্রামের বদরপতি এলাকার আব্দুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে কুস্তির প্রচলন করেছিলেন। সে কুস্তি কালক্রমে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘বলীখেলা’ নামে। বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ লালদীঘি মাঠে এ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লালদীঘি ও আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বসে বৈশাখী মেলা।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





