বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী আবিরুল ইসলাম আদনান। তিনি বর্তমানে বান্দরবান জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইনচর্চা করছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নোটিশদাতা বান্দরবান পৌরসভার আওতাধীন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যমপাড়া এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা এবং নিয়মিত পৌরকর প্রদানকারী।
লিগ্যাল নোটিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যমপাড়াসহ বান্দরবান পৌর এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত সাংগু নদী জেলার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে পৌরসভার সংগৃহীত বর্জ্য প্রতিদিন শেষে রোয়াংছড়ি সড়কের পাশে লেমুঝিরি এলাকায় অবস্থিত ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়, যা সাংগু নদীর খুব কাছেই অবস্থিত। একই সঙ্গে ওই এলাকার পাশে মধ্যমপাড়া, যেখানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস।
অভিযোগে বলা হয়, ডাম্পিং স্টেশনে জমা হওয়া বর্জ্য নির্দিষ্ট সময় পরপর আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়। ফলে আশপাশের এলাকায় বিশেষ করে মধ্যমপাড়ায় কালো ধোঁয়ার ঘন স্তর ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্লাস্টিক ও রাসায়নিক পদার্থের তীব্র দুর্গন্ধ মানুষের বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবাদ ও স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্ষা মৌসুমে ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য সাংগু নদীতে গিয়ে পড়ে, যা নদীর পানি দূষিত করছে এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
নোটিশদাতা জানান, তার পরিবারে বয়স্ক ব্যক্তি ও দুই বছরের শিশু রয়েছে। এই দূষণের কারণে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় প্রায় ৫ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরকেও নোটিশের দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টিতে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় দায়িত্বে অবহেলা, জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক বলেন, আমি এখনো লিগ্যাল নোটিশ পাইনি। হাতে পেলে বিস্তারিত জানতে পারবো।
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াছ/এমকেএন






