চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে ইউটিউবারের তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ ইউটিউবারের পক্ষ নিয়ে যুক্তি দেখাচ্ছেন আবার কেউ কেউ ডাক্তারের পক্ষে কথা বলছেন।
আবার এদিকে এ ঘটনায় ওই ইউটিউবারকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। অপরদিকে নির্দোষ হলে যে কোনও শাস্তি মেনে নিবেন বলে মন্তব্য করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
জানা গেছে, ‘আজাদ মামু’ নামের ওই ইউটিউবার এক মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর শয্যার পাশে গিয়ে তার স্বামী-সন্তানের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে পরামর্শ দেন।
তাদের অসহায় অবস্থা দেখে নূরে হানিফা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রোগীর স্বামীকে তিনি ১০ হাজার টাকা সহায়তা করেন। এসময় সেখানে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক জাহিদ হোসেন ওয়াকিল তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করলে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।
চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (২০২৫-২৬) দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান জানান, ওই ইউটিউবার অনুমতি ছাড়াই ওয়ার্ডে ঢুকে একজন রোগীর ভিডিও করতে থাকে। দায়িত্বরত ইন্টার্ন ডা. জাহিদ হোসেন ওয়াকিল এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে এবং তাকে ভালোভাবে বোঝানোর চেষ্টা করলে সে ডাক্তারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনার একটি এডিটেড এবং কাটছাঁট করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ডা. ওয়াকিলের সম্মানহানি করার চেষ্টা করে। এ ঘটনাকে আমরা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নিরাপদ কর্মপরিবেশের ওপর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছি।
তিনি আরও জানান, কোনো ইউটিউবার বা অনিবন্ধিত মিডিয়া ভিডিও ধারণ করতে চাইলে চমেক হাসপাতাল পরিচালকের অনুমতি প্রয়োজন হয়। এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করার পাশাপাশি যদি আগামী চব্বিশ ঘণ্টার ভেতর অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা না হয় তাহলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ইউটিউবার আজাদ বলেন, চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে আমাকে অননুমোদিত ও অবৈধ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমি সেখানে গিয়েছিলাম মানবিক কারণে, এক অসহায় বোনের চিকিৎসার জন্য ওষুধের টাকা দিতে, কারণ সরকারি হাসপাতালে গিয়েও তার পরিবার ওষুধ কেনার সামর্থ্য হারিয়েছিল। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত ডা. ওয়াকিল আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেন এমনকি সেই মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হয়। যদিও তিনি নিজেই লিখেছিলেন যে, রোগীর আইসিইউ প্রয়োজন ছিল। পরিতাপের বিষয় যে, সেই রোগীটি আজ আর এই পৃথিবীতে নেই।
তিনি আরও বলেন, ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন আমার বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে। প্রশ্ন হলো-আমার অপরাধ কী? মানুষের পাশে দাঁড়ানো কি অপরাধ? আমি কি চুরি করেছি নাকি ডাকাতি করেছি? তারা আমাকে ‘ভিউ ব্যবসায়ী’ বলে অপবাদ দিচ্ছে, অথচ আমার ফেসবুক পেজে কোনো মনিটাইজেশন নেই এবং আমি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করি। আমি সেখানে নার্স এবং রোগীর স্বজনদের অনুমতি নিয়েই প্রবেশ করেছিলাম, কারও কাজে বাধা দিতে নয়। আমি নিজেই ক্যান্সার সারভাইভার এবং মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। তাই আমি জেল বা মৃত্যুকে ভয় পাই না।
এ ঘটনার বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল নিজের ফেসবুক পেইজে ডা. জাহিদ হোসেন ওয়াকিল লিখেছেন, ‘দেখুন এইমাত্র হাজার দশেক টাকা দেওয়া হলো। বেডের চারপাশে ভীড়। পেশেন্ট আইসিইউ’র জন্য রিকমেন্ডেড; আপনি বাইরে গিয়ে সাক্ষাৎকার নেন’।
“আপনি কে? আমাকে চিনেন? সোশ্যাল ওয়ার্কার। আপনি দিতে পারবেন এতগুলো টাকা? এরপর পিছুপিছু গিয়ে… এই! আপনার নাম কি? আমি ডাঃ ওয়াকিল; আপনার ক্যামেরা পারসন ভালো ভিডিও করতে পারছে না; ভালো এঙ্গেলে ভিডিও করে ভাইরাল করে দেন। রেগেমেগে গেছে ডক্টর স্টেশনে। ডাইরেক্টর অফিসে পিটিয়ে; এরপর মামলা দিবে। শেষমেষ দশটায় পেশেন্ট পার্টি এসে ক্ষমা চেয়ে গেলো.. আমি ঐ ইউ-টিউমার কে খুজতেছি। ভাইরাল ভিডিওটা পেলে কেউ ইনবক্স করিয়েন”।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন কিংবা সংশ্লিষ্ট কারও অভিযোগ পাইনি’।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






