নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য হতে যাচ্ছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও চবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।
আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নামও ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তবে কবে থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে সেটি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা ঈদের পরেই প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক । তাঁর বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর গ্রামে।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ১৯৯৩ সালে একই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন এবং কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা ও এগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন।
২০০৪ সালে তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ, যা বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানভিত্তিক বিভাগ হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত Functional Genomics and Proteomics Laboratory (FGPL) এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ক্লাইমেট কন্ট্রোলড গ্রিনহাউস গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
করোনাকালীন সময়ে তিনি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর ল্যাব ও গবেষক দল দিয়ে এক লক্ষেরও বেশি নমুনা পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
৩১ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে তাঁর ৫১টি গবেষণা প্রকাশনা রয়েছে (h-index ১২), এবং তিনি দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি USDA, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে অনুদান পেয়েছেন।
একজন গবেষণা-পরামর্শক হিসেবে তিনি বহু এমএস, এমফিল ও পোস্ট-ডক্টরাল গবেষককে তত্ত্বাবধান করেছেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বিভাগীয় চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






