রাঙামাটি হাসপাতালে সাহসী অস্ত্রোপচার: গর্ভবতী নারীর জীবন রক্ষা

রাঙামাটি প্রতিনিধি: ‘দূরবর্তী ও প্রান্তিক এলাকাতেও উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্ভব, যদি থাকে দক্ষতা, সাহস ও মানবিকতা’ — এই কথার বাস্তব প্রমাণ দিল রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ২১ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী তীব্র পেটব্যথা নিয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তিনি পাঁচ সপ্তাহের এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি’তে ভুগছিলেন। অর্থাৎ ভ্রূণটি জরায়ুর বাইরে ফ্যালোপিয়ান টিউবে বেড়ে উঠছিল।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে রোগীর ফ্যালোপিয়ান টিউব ফেটে গেছে, ফলে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হয় এবং পেটের ভেতরে রক্ত জমে রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

সাধারণত এ ধরনের জটিল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা অন্যান্য বিশেষায়িত হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়। তবে রোগীর আর্থিক অসচ্ছলতা এবং দূরে রেফার করার ঝুঁকি ও ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালেই অস্ত্রোপচারের সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দক্ষ চিকিৎসক দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং ভ্রূণটি অপসারণ করা হয়। সময়োপযোগী এই উদ্যোগের ফলে রোগীর জীবন রক্ষা সম্ভব হয়।

অস্ত্রোপচার টিমে ছিলেন- রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) ডা. বিলকিস ফাতেমা, সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সানজিদা আক্তার, এনেস্থেসিয়োলজিস্ট ডা. সৈকত চাকমা, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. জেসমিন, এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মী।

ঝুঁকিপূর্ণ এই অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা এবং আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান পুরো অপারেশন টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

তাদের মতে, প্রান্তিক জনগণের জন্য চিকিৎসকদের এই মানবিক, সাহসী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সকলের সহযোগিতা ও পাশে থাকার মাধ্যমেই এই ধরনের সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব। জনসেবায় হাসপাতালের আন্তরিকতা কখনো থামবে না, এই প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলছে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল।

চাটগাঁ নিউজ/আলমগীর/এমকেএন

Scroll to Top