হঠাৎ মেয়র শাহাদাতের পদত্যাগের দাবিতে সরব এনসিপি!

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদে বহাল থাকা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফলে তার পদত্যাগে সরব হয়ে উঠেছে দলটি।

দলটির দাবি, একজন সক্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে মেয়র পদে থেকে তিনি যদি বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন, তাহলে নির্বাচনে সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হবে না। এ অবস্থায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকায় বিপ্লব উদ্যানে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সাংবিধানিক পদ। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন। এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি মেয়র পদে বহাল থাকলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এসময় এনসিপি নেতারা বলেন, চলতি মাসের ২৭ জানুয়ারি মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এ সময় মেয়র পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নেওয়া নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির পরিপন্থী হতে পারে। তাই নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে হলে ডা. শাহাদাত হোসেনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।

এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তারা কেউ নির্বাচন করছেন না, তবুও পদত্যাগ করেছেন। আমরা একই মানদণ্ড মেয়রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ডা. শাহাদাত হোসেনকে সম্মান করি। তিনি দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমরা চাই, তিনি জনগণের রায়ে মেয়র হোন। তবে নির্বাচনের স্বার্থে তাকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’

এনসিপির অভিযোগ, মেয়র পদে থেকেই ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন এবং সমাবেশের সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। এতে নির্বাচনী পরিবেশে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠছে।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সাম্প্রতিক এক গণবিজ্ঞপ্তিরও কড়া সমালোচনা করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েক শ’ ব্যক্তিকে ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সিএমপি এলাকা ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এনসিপির নেতারা বলেন, এটি কোনো দায়িত্বশীল উদ্যোগ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল। তাদের প্রশ্ন, পুলিশের কাছে যদি এসব ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান জানা থাকে, তাহলে কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘যদি পুলিশ জানে যে, কারা সন্ত্রাসী, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করাই পুলিশের দায়িত্ব। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।’

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের তালিকাভুক্ত সব সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় দলটি।

তবে হঠাৎ মেয়র শাহাদাতের পদত্যাগের দাবিকে হাস্যকর বলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি- মেয়র শাহাদাত এখনও পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর জন্য ভোট চাননি। তাছাড়া দলীয় প্রার্থীদের সমন্বয়ক হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের এই দাবি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top