চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) আবারও সার উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউরিয়া উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। এখন ইউরিয়া প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছে সিইউএফএল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ সেপ্টেম্বর কারখানাটির অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে ইউরিয়া প্ল্যান্টে দেখা দেওয়া বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইউরিয়া উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি।
সিইউএফএলের এক কর্মকর্তা জানান, ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য তরল অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশে ত্রুটি, পাইপলাইনে মরিচা ও লিকেজসহ নানা যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
তিনি বলেন, মেরামতের কাজ শেষ করে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে দ্রুতই ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। উৎপাদন শুরু হলে সিইউএফএল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এদিকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সিইউএফএলে প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন প্রতিষ্ঠান সিইউএফএল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ প্রিল্ড ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যে কারখানাটি স্থাপন করা হয়।
১৯৮৫ সালের অক্টোবরে সিইউএলএফের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায় কারখানাটি। পরের বছর ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন। জাপানের মেসার্স টয়ো ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ছিল কারখানাটির জেনারেল কন্ট্রাক্টর।
সিইউএফএলের নিজস্ব ১৭০ মিটার দীর্ঘ ও ২৫ মিটার প্রশস্ত একটি জেটি রয়েছে। এই জেটি দিয়ে সিইউএফএলের পাশাপাশি ডিএপিএফসিএলের কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিডও খালাস করা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে সার পরিবহনের জন্য রয়েছে একটি লোকাল জেটি।
গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কারখানাটির উৎপাদন একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে। তবে উৎপাদন স্বাভাবিক হলে দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে সিইউএফএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





