চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় মো. মোস্তফা (৩০) নামে এক পলাতক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মোস্তফা সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানার দুর্গাপুর এলাকার মৃত নূর হোসেন ও রায় বানুর ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের হালিশহর থানার মধ্যম রামপুর, ঈদগাহ, বড়পুকুর পাড়, বাঁশতলা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। ফলে রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর (সংশোধিত ২০০৩) ৯(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি সিআরপি ৭১/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। বিচারিক কার্যক্রমে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি ভাড়া বাসায় ওই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা রিকশাচালক এবং মা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। চার মেয়েকে নিয়ে তারা ওই বাসায় বসবাস করতেন। আসামি মোস্তফা ছিলেন পরিবারের আত্মীয় এবং পাশের বাসায় থাকতেন। আত্মীয়তার সুবাদে তিনি প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে আসামি পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নেন। একপর্যায়ে ১০ বছর বয়সী বড় মেয়েকে টাকা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে ছোট মেয়েটিকে বাসায় একা রেখে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান। পরে শিশুটিকে ১০০ টাকা দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পরে শিশুটির বড় বোন বাসায় ফিরে তাকে অসুস্থ ও কান্নারত অবস্থায় দেখতে পায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি জানার পর শিশুটির বাবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় গিয়ে মোস্তফার বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





