চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : টেকনাফের সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার নেপথ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি ছিলেন বলে দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রবিবার (২৬ জুলাই) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আব্দুর রহমান বদির মেটিকুলাস ডিজাইনে (পরিকল্পনায়) এ ঘটনা ঘটেছিল। একরাম ছিলেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। হত্যাকাণ্ডের পর একরামের সম্পত্তিও বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়। নেপথ্য নায়ক ছিলেন বদি।’
এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আব্দুর রহমান বদি, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান তুষার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম মিনু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ ওরফে রাজু এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকতকে।
তাদের মধ্যে আব্দুর রহমান বদি, আনোয়ার লতিফ খান ও মাহবুব আলম মিনু অন্য মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আট জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে আটক তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। আটক আসামিদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র্যাব ও এর সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, সেখানেও একরাম হত্যা প্রসঙ্গ উল্লেখ ছিল। ওই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তখনকার র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, তৎকালীন সরকার বিরোধীদের লক্ষ্য করে অপহরণ ও কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ মাধ্যমে হত্যার ঘটনা ঘটাতো। একরাম হত্যা ছিল তেমনই একটি ঘটনা।
তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন চালু থাকা অবস্থায় একরামের স্ত্রী ও মেয়েরা গুলির শব্দ এবং কথোপকথন শুনতে পেয়েছিলেন। সেসব অডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল, ওবায়দুল কাদের ও আব্দুর রহমান বদির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বের (সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি) অভিযোগ আনা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে র্যাবের কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালিয়া এলাকায় নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তৎকালীন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি একরামুল হক। ঘটনার পর তার মোবাইল ফোনে ধারণ হওয়া কথোপকথনের অডিও প্রকাশ পেলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে একরামের স্ত্রী আয়শা বেগম অভিযোগ করেন, ডিজিএফআই ও র্যাবের স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ






