রাঙ্গুনিয়ায় ড্রেন-রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের বনগ্রাম ও চুনাবাটি সড়ক এলাকায় সরকারি রাস্তা ও ড্রেন দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে পাহাড়ি ঢলের মতো পানির স্রোত বয়ে যায়। এতে হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী চুনাবাটি সড়কটির প্রস্থ ৭ ফুট হলেও অবৈধ দখলের কারণে কোথাও তা ৩ ফুট, কোথাও ৪ ফুটে নেমে এসেছে। ভবন মালিকরা রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা দখল করায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সড়ক কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়।

এ অবস্থায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি এক ব্যক্তির মৃত্যু হলে সংকীর্ণ সড়কের কারণে তার মরদেহ কাঁধে না নিয়ে হাত দিয়ে উঁচিয়ে বহন করে বের করতে হয়েছে।

এছাড়া ড্রেনের ওপর নির্মিত ভবনগুলো থেকে বর্জ্য ফেলায় ড্রেনগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেয়ামত উল্লাহ বলেন, কাপ্তাই সড়কের বৃহত্তর বনগ্রাম চাষী ফার্ম এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই সড়কটি বনগ্রামের মূল সড়কে গিয়ে মিলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি রাস্তা, ড্রেন ও নলকূপের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করায় তাকে এবং তার পরিবারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তার প্রয়াত পিতা একাধিক মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও এলাকার একজন প্রবীণ আলেম ছিলেন। এমন একটি পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোয় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এদিকে সড়কের বেহাল অবস্থা এবং যুবদল নেতা নেয়ামত উল্লাহ ও তার পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় মুরব্বি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত রাস্তা ও ড্রেন দখলমুক্ত করার দাবি জানান।

তাদের বক্তব্য, অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে সরকারি রাস্তা ও ড্রেন উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ভবন মালিক আব্দুর রহমান বলেন, সবাই যদি ভবনের অবৈধ অংশ সরিয়ে নেয়, তাহলে আমিও সরিয়ে নেব।

এদিকে মূল বনগ্রাম সড়ক নিয়ে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ ও ক্ষোভের মুখে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে মূল সড়কের ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু মূল সড়ক নয়, এর সঙ্গে সংযুক্ত চুনাবাটি সড়কসহ আশপাশের সব সড়ক থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে রাস্তা ও ড্রেন সম্পূর্ণ উদ্ধার করতে হবে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন

Scroll to Top