সিজার নয়, স্বাভাবিক প্রসবে আস্থা বাড়াচ্ছে রাজারহাট হাসপাতাল

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: পাহাড় আর দুর্গম জনপদে ঘেরা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পাওয়া একসময় ছিল নানা ভোগান্তির বিষয়। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের জরুরি সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ ও যাতায়াতের দুর্ভোগ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াত। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্রে এসেছে পরিবর্তন। পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র—স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘রাজারহাট হাসপাতাল’—প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে এখন হয়ে উঠেছে আস্থার অন্যতম ঠিকানা।

শুধু কর্মদিবসেই নয়, রমজান ও কোরবানির ঈদের মতো সরকারি ছুটির সময়েও এ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ প্রসব কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে। এর ফলে দুর্গম এলাকার প্রসূতি মায়েরা জরুরি সময়ে কাছাকাছি থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা ডেলিভারি সেন্টারে মোট ২৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গম এলাকার প্রসূতি মায়েদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে পদুয়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) মো. এনামুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। ছুটির দিনেও যেন কোনো রোগী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে পুরো টিম দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা থাকলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মানুষের জন্য কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। রাজারহাট হাসপাতালের কার্যক্রম তারই একটি উদাহরণ।

কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) রুবি প্রভা দে বলেন, সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের প্রতি আস্থা তৈরি করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন না থাকলেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের প্রবণতা দেখা যায়। এ অবস্থায় নরমাল ডেলিভারির ধারাবাহিক সাফল্য মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের ব্যাপারে উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তিনি।

রাজারহাট হাসপাতাল থেকে সেবা পাওয়া এক নবজাতকের বাবা আবদুল হাকিম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মতো দুর্গম এলাকায় সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক উদ্যোগ থাকলে সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থব্যয় ও চিকিৎসাজনিত নানা দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই রক্ষা করা সম্ভব। ছুটির দিনেও তারা প্রয়োজনীয় সেবা পেয়েছেন উল্লেখ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পদুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি নিরাপদ মাতৃত্ব ও নরমাল ডেলিভারির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন

Scroll to Top