সাঙ্গু নদী দূষণ: জরিমানা গুণল দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-সাতকানিয়ায় মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীতে দূষিত বর্জ্য ছাড়ার ঘটনায় দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জারি করা এক আদেশে সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত পানিতে দূষণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়ার পর এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জামির উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন এবং পরিবেশ দূষণ না করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য তেল শাখা খাল হয়ে সাঙ্গুতে, হুমকিতে জলজ জীববৈচিত্র্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে চাটগাঁ নিউজ। সংবাদটি প্রকাশের পরেই নড়েচড়ে বসে পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরে তাদের পরীক্ষাতেও দেখা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বের হওয়া পানিতে তেল ও চর্বিজাতীয় পদার্থের মাত্রা অনুমোদিত সীমার ৩ দশমিক ১ গুণ। পানিতে ভাসমান কঠিন পদার্থের মাত্রা নির্ধারিত সীমার ৪ দশমিক ৪ গুণ এবং রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদার মাত্রা ৩ দশমিক ৯ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। এসব উপাদানের অতিরিক্ত উপস্থিতি পানিদূষণের মাত্রা নির্দেশ করে।

এর আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য সাঙ্গু নদীতে মিশে যাওয়ার বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষায় উঠে আসে। সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৈল্যাখালের পানির নমুনা পরীক্ষা করে দূষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। খালটি সাঙ্গু নদীর একটি শাখা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল থেকে তৈরি বর্জ্য বা কাদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি পুকুরে জমা রাখা হতো। গত জুলাইয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যার সময় পুকুরটিতে বন্যার পানি ঢুকে পড়লে সেই বর্জ্য পানির সাথে মিশে খাল দিয়ে আশপাশের এলাকা ও নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল মান্নান এর আগে জানিয়েছিলেন, বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার পর তা অপসারণের কাজ শুরু করেছেন তারা। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ লিটার বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। দূষণ বন্ধের দাবিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন করেন। পরে তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন। দূষিত পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও অন্যান্য দূষক জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করতে পারে। দূষিত পানির মাছের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর উপাদান মানুষের শরীরেও প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

সাঙ্গু নদী মিয়ানমারের আরাকান পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯৪ কিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে।

নদীটি স্থানীয় জনজীবন, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top