সন্দ্বীপ থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে পাওয়া গেল কুমিল্লায়

সন্দ্বীপ প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আরিফ (২১) কে গ্রেপ্তারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম সানজিদা আক্তার আনিশা (১২)। সে সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে এবং স্থানীয় আনন্দ পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আনিশার বাবা শাহাদাত ও তার বন্ধু ব্যবসায়ী আমির হোসেন আজাদ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আমির হোসেন আজাদ জানান, আনিশাকে নিয়ে যাওয়া যুবকের নাম আরিফ (২১)। তার বাড়ি রংপুর জেলায়। প্রায় ছয় মাস আগে পর্যন্ত তিনি আনিশার বাবার ব্রয়লার মুরগির খামারে চাকরি করতেন। পারিবারিক পরিচিতির কারণে অতীতেও প্রয়োজন হলে ওই যুবক আনিশাকে স্কুল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে আনন্দ পাঠশালার প্রধান ফটক থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে স্কুল গেট থেকে বের হয়ে একটি অটোরিকশায় উঠে সে। পরে যুবকটি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ অটোরিকশার চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায়, অভিযুক্ত যুবক সেদিনই আনিশাকে নিয়ে সন্দ্বীপ ত্যাগ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু হয়।

এ সময় ফেসবুকে মুহাম্মদ সারোয়ার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিকেল ৩টার দিকে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটে চলাচলকারী একটি সার্ভিস ট্রলারের কেবিনে স্কুলড্রেস পরা আনিশাকে তিনি দেখতে পান।

আমির হোসেন আজাদ আরও জানান, অভিযুক্ত যুবক আনিশাকে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আনিশার স্বাভাবিক জ্ঞান ফিরে এলে সে কান্নাকাটি শুরু করে। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন মেয়েটির পরিচয় জেনে তার পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেন। খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও আমির হোসেন আজাদ বুড়িচংয়ে গিয়ে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আনিশাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/ফয়সাল/জেএইচ

Scroll to Top