বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা সাজিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তার নাম কামরুল হাসান। বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়। কামরুল শুধু এতোটুকুতেই থেমে থাকেননি, এই ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দিয়ে ভুয়া জায়গার কাগজ (জমাবন্দি/খতিয়ান) তৈরি করে কিনেছেন জায়গা জমিও।
যেখানে পার্বত্য এলাকায় পার্বত্য আইন অনুযায়ী জায়গা কিনতে হলে যিনি কিনবেন তার নামে বা তার ওয়ারিশদের নামে আগে থেকেই জায়গা থাকতে হয়। তাছাড়া পার্বত্য আইন অনুযায়ী পার্বত্য জেলার বাইরের লোকজনের জায়গা কেনারও কোনো সুযোগ নেই।
কিন্তু অভিযুক্ত কামরুল হাসান এ অসম্ভব কাজকে সম্ভব করেছেন কোনো এক অদৃশ্য শক্তি দিয়ে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় হলেও বান্দরবানে এসে বিয়ে করে শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা সাজিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে একে একে জন্মনিবন্ধন, এনআইডি তৈরি করেন। পরে এ জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি দিয়ে পার্বত্য এলাকায় ভুয়া জায়গার কাগজ তৈরি করে জায়গা জমি কেনা শুরু করেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি জমি তার নামে রেজিস্ট্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিষয়গুলো ২০২৩ সালের দিকে জানাজানি হয় এবং সত্যতাও পেয়েছিলেন তৎকালীন পৌরসভার মেয়র ইসলাম বেবি। পরে ২০২৩ সালে ইসলাম বেবি মারা যান। বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসাবে দায়িত্বে আছেন বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না পৌরসভা প্রশাসক মনজুরুল হক। অথচ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে স্পষ্ট চিঠি ইস্যু করা হয়েছে জন্মনিবন্ধনটি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছে বিধায় সনদটি আইনসিদ্ধ নয় এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন মোতাবেক বাতিল যোগ্য। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ব্যক্তি জানান, অবৈধ উপায়ে এবং ভুল তথ্য দিয়ে জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি করা দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধ হিসাবে গণ্য হওয়া সত্ত্বেও এ অপরাধের বিচার না করে উলটো প্রশাসন তাদের পক্ষ নেওয়া মানে হচ্ছে তাদের অবৈধ কাজে উৎসাহিত করা।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কামরুল হাসান বলেন, আমাকে ১০-১১ বছর বয়সে দত্তক নিয়েছিলেন আমার শ্বশুর-শাশুড়ি। তাই বাবা-মা হিসাবে তাদের নাম দিয়ে আমি জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি করেছি।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক বলেন, বিষয়টি এখনো পেন্ডিং। রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দিয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে সেটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে আবারও চিঠি লিখেছি। বিষয়টি আরও ক্লিয়ার হওয়া দরকার। আমরা চাইলেই তো জন্মনিবন্ধন বাতিল করতে পারি না।
চাটগাঁ নিউজ/ইলিয়াস/এমকেএন





