রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কের রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাটে আবারও ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতির অবৈধ ব্যাটারিচালিত টমটমের (থ্রি-হুইলার) ধাক্কায় রুবেল (৩০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শান্তিরহাট বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত রুবেল শান্তিরহাট ওয়াসা সংলগ্ন একটি মোটরসাইকেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং বুড়ির দোকান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে মোটরসাইকেলযোগে শান্তিরহাট থেকে বুড়ির দোকানে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন রুবেল। পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির টমটম হঠাৎ বেপরোয়াভাবে মোড় ঘুরতে গিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সে সড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়।
জানা যায়, ষাটের দশকে (১৯৬০-৬২ সালে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কেন্দ্র করে) নির্মিত প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চট্টগ্রাম-কাপ্তাই আঞ্চলিক মহাসড়কটি (আর-৭৬০) রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, কাপ্তাই, কাউখালীসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের চট্টগ্রাম নগরে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। সড়কটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ৬ দশক পার হলেও যানবাহনের তুলনায় সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়ন সেভাবে হয়নি।
বর্তমানে এই সরু সড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। যেখানে ১৮ থেকে ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক দিয়ে হাজার হাজার ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল করছে, একই সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে হাজার হাজার নিবন্ধনহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত টমটম, সিএনজি অটোরিকশা এবং ইজিবাইক।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত নজরদারির অভাবে অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকরা মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে, যা প্রতিদিন দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ থেকে সড়কের দুই পাশে সম্প্রতি চার ফুট করে প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত ফুটপাত এবং সড়কসংলগ্ন খালের জায়গা উদ্ধার না করায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুই পাশে কার্যকর ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে কেবল চার ফুট প্রশস্তকরণ দুর্ঘটনা কমাতে পারবে না।
সড়ক নিরাপদ কররে চারটি পদক্ষেপ নেয়া এখন জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এর একটি হচ্ছে, কাপ্তাই সড়ককে অনতিবিলম্বে আধুনিক চার লেনে উন্নীত করা এবং ধীরগতির যানের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বিআরটিএ ও জেলা ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মহাসড়কে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং ব্যাটারিচালিত টমটম চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। তৃতীয়টি হচ্ছে লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা নিশ্চিত করা। এবং সর্বশেষ সড়কের পাশে ফুটপাত নির্মাণ, বিপজ্জনক বাঁকসমূহ সরলীকরণ এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক সাইন ও সড়ক বাতির ব্যবস্থা করা।
কাপ্তাই সড়ককে অবিলম্বে নিরাপদ করতে এবং প্রতিদিনের ‘মৃত্যুর মিছিল’ বন্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সচেতন এলাকাবাসী।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ





