রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় একটি গোয়ালঘর থেকে পাঁচ মাসের গর্ভবতী গাভী চুরি করে রাতের আঁধারেই জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শুধু একটি গাভীই নয়, গর্ভে থাকা অনাগত বাছুরটিও প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ডাবাইয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত মো. মাহবুব (৪০) ঘাগড়া খিল মোগল এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতো গাভী ও একটি বাছুর গোয়ালঘরে বেঁধে ঘুমাতে যান মাহবুব। মঙ্গলবার সকালে গোয়ালঘরে গিয়ে তিনি দেখেন, বাছুরটি থাকলেও গাভীটি নেই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা পাশের সিকদারপাড়া-ইউনিয়ন পরিষদের বিকল্প সড়কের সীমান্ত এলাকায় গাভীর কাটা লেজ ও নাড়িভুঁড়ি পড়ে থাকতে দেখেন। দুর্বৃত্তরা গাভীটি জবাই করে মাংস নিয়ে গেলেও দেহের অবশিষ্টাংশ সেখানে ফেলে রেখে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের আদরের গাভীর দেহাবশেষ শনাক্ত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাহবুব।
জানা গেছে, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের গাভীটি দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করছিলেন তিনি। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ বহন এবং সংসারের দেনা পরিশোধের আশায় গাভীটি পালন করছিলেন। গাভীটি পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিল। মাহবুবের তিন সন্তান স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি মো. মাহবুব বলেন, কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। কৃষিকাজ আর দিনমজুরি করে কোনোভাবে সংসার চালাই। গাভীটির বাছুর হবে—এই আশাতেই ছিলাম। কিন্তু চোরেরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম তালুকদার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মাহবুব একজন অসহায় দিনমজুর। এ ধরনের নৃশংস ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
এদিকে গাভী হারানোর শোকে ভেঙে পড়েছে মাহবুবের পরিবার। এলাকাবাসী এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন






