উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ায় মাদকের টাকা ভাগাভাগি ও হিসাব-নিকাশে গড়মিলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও গুলাবারুদসহ দুই রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় জনতা।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধামনখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন—উখিয়ার ক্যাম্প-৩, ব্লক-ডি/৫-এর সলিমের ছেলে ইব্রাহীম (৩০) এবং একই ক্যাম্পের ব্লক-ডি/৩৮-এর দিল মোহাম্মদের ছেলে নুর আলম (২৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ১০-১২ জন রোহিঙ্গা ধামনখালী এলাকার বাসিন্দা জাগীর হোসেনের বাড়িতে যায়। তারা জাগীর হোসেনকে অপহরণের উদ্দেশ্যে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ধাওয়া দেন। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার পথে ইব্রাহীম ও নুর আলমকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আটক ইব্রাহীম জাগীর হোসেনের স্ত্রীর আপন ভাই। জাগীর হোসেন আগে একটি রোহিঙ্গা মাদক কারবারি চক্রের হয়ে ইয়াবা বহনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। মাদকের টাকা ভাগাভাগি ও হিসাব-নিকাশে গড়মিলকে কেন্দ্র করে ইব্রাহীমের সঙ্গে জাগীর হোসেনের বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এর জের ধরে ইব্রাহীমসহ কয়েকজন জাগীর হোসেনের বাড়িতে গেলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে জাগীর হোসেনকে অপহরণের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইব্রাহীম ও নুর আলমকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলাবারুদের ধরন, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অপহরণের উদ্দেশ্যসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, স্থানীয় জনগণ অস্ত্রসহ দুজন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাটগাঁ নিউজ/মোস্তফা/এমকেএন






