চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালী উপকূলের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি–যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সেলারেট এনার্জি–থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশে এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকট তৈরী হয়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, জ্বালানিবাহী এলএনজি পরিবাহী জাহাজের সঙ্গে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সঞ্চালন স্থগিত করা হয়।
নাসির উদ্দিন বলেন, এফএসআরইউটি এলএনজি জাহাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় টার্মিনাল থেকে গ্যাস সঞ্চালন স্থগিত করতে বাধ্য হতে হয়েছে। প্রকৌশলীরা দ্রুত অপারেশন পুনরুদ্ধার করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পেট্রোবাংলার সূত্র মতে, মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে এই বিপর্যয়ের আগে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমএসসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ৫৫০ এমএমএসসিএফডি-তে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৫০০ এমএমএসসিএফডিরও বেশি গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ কক্সবাজারের মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে দুটি এফএসআরইউ টার্মিনাল পরিচালনা করে, যা আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ৫০০ এমএমএসসিএফডি রিগ্যাসিফিকেশন ক্ষমতা রয়েছে, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সঞ্চালন নেটওয়ার্কে দুটি সুবিধা মিলিয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।
প্রথম সুবিধা, মহেশখালী ফ্লোটিং এলএনজি (এমএলএনজি), ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এটি একটি ১৫ বছরের চুক্তির অধীনে এক্সিলারেট এনার্জি দ্বারা মালিকানাধীন ও পরিচালিত, যার পরে এর মালিকানা পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দ্বিতীয়টি, সামিট এলএনজি টার্মিনাল, ২০১৯ সালে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন, তবে এর এফএসআরইউ-টিও এক্সিলারেট এনার্জি দ্বারা পরিচালিত ও ব্যবস্থাপনা করা হয়। এলএনজি আমদানি, টার্মিনাল তদারকি এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিডে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ পেট্রোবাংলার তত্ত্বাবধানে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) দ্বারা সমন্বিত হয়।
বাংলাদেশে দৈনিক প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা আনুমানিক ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে বর্তমান সরবরাহ ছিল প্রতিদিন মাত্র ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল সাধারণত দিনে ১ থেকে ১ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করে, যা দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৪০ শতাংশ।
ফলে এই টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৫ থেকে ১৯ শতাংশ কমে গেছে, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প কারখানাসহ অন্যান্য প্রধান গ্রাহকদের গ্যাস সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ






