চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি বিনিয়োগ প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি এর বিপরীতে কী অর্জন হচ্ছে, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আয়োজিত ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রমের সঙ্গে নিয়মিত তুলনা ও মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণা, ব্যবস্থাপনা ও একাডেমিক কার্যক্রমে পিয়ার রিভিউয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, নিজেদের কাজের মূল্যায়ন নিজেরা করলে সীমাবদ্ধতা অনেক সময় ধরা পড়ে না। তাই বাইরের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান উন্নত করতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। ভালো গবেষণা করাই যথেষ্ট নয়, সেই গবেষণা ও উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং দৃশ্যমানতাও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে শুধু ভবন নির্মাণ বা অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি দক্ষ জনবল, আধুনিক গবেষণা সুবিধা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল মিলবে না।
সরকারি অর্থে নেওয়া প্রকল্প প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, প্রতিটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থের যথাযথ ব্যবহার, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। জনগণের করের অর্থে যে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, তা থেকে বাস্তবে কী ধরনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
চুয়েটের আইটি ইনকিউবেটর নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও চুয়েট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। ঢাকায় ফিরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চুয়েটের গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকেও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। অর্থের অভাবে সম্ভাবনাময় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যেন থেমে না যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুয়েটের সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। এলাকার সন্তান হিসেবে চুয়েটের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সক্ষমতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে চুয়েটকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।
চুয়েটের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং উন্নয়নে বিদেশি অধ্যাপক নিয়োগ, অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি যুক্ত করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং গবেষণা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ আরও জোরদার করার পাশাপাশি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন উপাচার্য।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





