ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠন নিয়ে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা জারি

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৯ আগস্ট) এ আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নতুন এ উপজেলা নিয়ে শুরু থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও অসন্তোষ চলে আসছে। বিশেষ করে ভূজপুর ও হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি চার ইউনিয়নে উপজেলা সদর কোথায় হবে এবং সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও পালন করেছেন স্থানীয়রা।

সরকারের গেজেট অনুযায়ী, বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাঠামোও অনুমোদন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ছয় ইউনিয়নের মানুষের জন্য প্রশাসনিকভাবে সুবিধাজনক ও কেন্দ্রীয় স্থানে উপজেলা সদর স্থাপন করা হোক। বিশেষ করে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী এলাকায় সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। একই সঙ্গে সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলা থেকে বাদ দিয়ে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে রাখার দাবিও রয়েছে।

এ অবস্থায় হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ নতুন উপজেলা গঠন ও এর প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, সুয়াবিল ইউনিয়নকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হলে এখানকার মানুষের প্রশাসনিক ভোগান্তি আরও বাড়বে। ভৌগোলিক অবস্থান ও মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় সুয়াবিলকে বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলার সঙ্গে রাখাই যৌক্তিক। আমরা সুয়াবিলবাসীর স্বার্থে এই দাবি জানিয়ে আসছি।

রকিবুল আলম চৌধুরী পিটু বলেন, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর এমন একটি জায়গায় স্থাপন করা উচিত, যেখান থেকে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ সহজ হয়। কোনো ইউনিয়ন বা এলাকার প্রতি পক্ষপাত না করে ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক ও কেন্দ্রীয় স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করা প্রয়োজন।

চাটগাঁ নিউজ/ফরিদ/এমকেএন

Scroll to Top