ফটিকছড়িতে সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার হাসপাতাল সড়ক নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুছ ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের সাইট ওয়াল নির্মাণে এক নম্বর ইটের পরিবর্তে দুই নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসি ঢালাইয়ের কাজেও নির্ধারিত পুরুত্ব মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল সড়কের সাইট ওয়াল নির্মাণে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, দেয়াল নির্মাণে ব্যবহৃত অধিকাংশ ইটই নিম্নমানের।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সিসি ঢালাইয়ের পুরুত্ব কোথাও প্রায় এক ইঞ্চি, আবার কোথাও দুই ইঞ্চির মতো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত পুরুত্ব অনুযায়ী ঢালাই না দিয়ে কম পুরুত্বে কাজ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সিসি ঢালাই দেওয়ার পর নির্ধারিত সময় অপেক্ষা না করেই পরবর্তী নির্মাণকাজ শুরু করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে ভবিষ্যতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাজিরহাট পৌরসভার হাসপাতাল সড়কটি নির্মাণে প্রায় ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রায় ১৮.৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বিভিন্ন অংশে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ মিটার প্রস্থের কাজের বরাদ্দ রয়েছে।

নির্মাণকাজের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করে প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আরিফ বলেন, তিন ইঞ্চির জায়গায় আমরা দুই ইঞ্চি দিয়েছি। ইটগুলো দুই নম্বর।

তবে সরকারি বরাদ্দ ও নকশা অনুযায়ী যেখানে এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা, সেখানে দুই নম্বর ইট কেন ব্যবহার করা হচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। দুই নম্বর ইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ অংশ নতুন করে করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুছ ব্রাদার্সের পক্ষে রাসেল বলেন, সম্ভবত ইটভাটা থেকে নিম্নমানের (দুই নম্বর) ইট এসেছে। বিষয়টি পৌরসভার প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজটি এগিয়ে নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের কাজে শুরুতেই যদি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে কাজ শেষ হওয়ার পর এর স্থায়িত্ব ও মান কতটা নিশ্চিত হবে? তাদের দাবি, পৌর কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকিতে পুরো নির্মাণকাজের মান যাচাই করে পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক।

চাটগাঁ নিউজ/ফরিদ/এমকেএন

Scroll to Top