ফটিকছড়িতে কেঁচো সারে বদলে যাচ্ছে নারীদের জীবন

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় নারীরা এখন আর শুধু গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ নেই; তারা হয়ে উঠছেন সফল উদ্যোক্তা। উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারিখিল গ্রামে নারীরা ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

২০১৫ সালে এই গ্রামে প্রথম ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন শুরু হয়। শুরুতে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চললেও ধীরে ধীরে গ্রামের নারীরা এতে সম্পৃক্ত হন। বর্তমানে প্রায় ৪০টি পরিবার এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। উৎপাদিত কেঁচো সার ফটিকছড়ির গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

নারী উদ্যোক্তা ঊষা বালা নাথ বলেন, শুরুর দিকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। তবে এখন কাজটি অনেক সহজ হয়ে গেছে। তিনি নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং অন্যদের এই কাজ শেখাতে সহায়তা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও তারা বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেয়েছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন (জসিম মেম্বার) জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইউসিডির অর্থায়নে ‘ক্রেল প্রকল্প’-এর মাধ্যমে হাজারিখিলসহ কয়েকটি গ্রামে অস্ট্রেলিয়ান রেড কেঁচো সরবরাহ করে নারীদের এই কাজে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে কেঁচো সার উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহ বলেন, কৃষির অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো সার, যা রাসায়নিক ও জৈব—এই দুই ধরনের। অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জৈব সার ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হারুয়ালছড়ি ও হাজারিখিল এলাকায় প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করা হয়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই অঞ্চলে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে, ফলে মাটির স্বাস্থ্যও উন্নত হচ্ছে। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ যেন টেকসই হয়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।

ফটিকছড়ির এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে—সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পেলে গ্রামীণ নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

চাটগাঁ নিউজ/আনোয়ার/এমকেএন

Scroll to Top