একটি সড়কের কারণে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভোগান্তি!

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, রয়েছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীও; কিন্তু বছরের অর্ধেক সময় ধুলাবালি, অর্ধেক সময় হাঁটুসমান কাদা—দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয় রাঙ্গুনিয়ার হালিমপুর এলাকার শিক্ষার্থীদের। বর্ষা মৌসুমে সেই পথটুকুও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, ফলে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় কয়েকশ শিক্ষার্থীর লেখাপড়া।

উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হালিমপুর এলাকায় অবস্থিত আশোবা ওয়াজেদ প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে এমনই সংকটের চিত্র দেখা গেছে।

২০১৯ সালে এলাকার সন্তান অধ্যাপক ডা. ওয়াকিল আহমদ তাঁর প্রয়াত পিতা-মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার সাত বছরে বিদ্যালয়টি প্রাথমিক পর্যায় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান সম্প্রসারণ করা হয়েছে। হালিমপুর, বাইশ্যের ডেবা, গাজী বাড়ি, মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের ৭-৮টি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এটি একমাত্র ভরসা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি এখনো কাঁচা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই তা কর্দমাক্ত হয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, বর্ষাকালে জুতা হাতে নিয়ে বা কাদা মাড়িয়ে স্কুলে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট হওয়া ও আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

অভিভাবকদের কণ্ঠেও শোনা গেছে উদ্বেগ। তারা জানান, সন্তানদের পড়াশোনার আগ্রহ থাকলেও রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে বর্ষার দিনে তাদের ঘরে আটকে রাখতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একরাম হোসেন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে উপস্থিতির হার প্রায় শতভাগ থাকলেও বর্ষা এলেই ক্লাসরুমগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। শুধু রাস্তার কারণে পিছিয়ে পড়ছে শত শত শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দা বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষার চিত্র বদলে দিলেও একটি টেকসই সড়কের অভাবে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সড়ক সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

হালিমপুরবাসীর দাবি, স্বপ্নের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি পাকা বা কার্পেটিং করা এখন সময়ের দাবি।

চাটগাঁ নিউজ/জগলুল/এমকেএন

Scroll to Top