ওমানে প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানের রহস্যজনক মৃত্যু, গাড়ি থেকে উদ্ধার মরদেহ

ওমান প্রতিনিধি: ওমানের সোহারে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মিজান (৩৭)-এর মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত সোমবার (১ জুন) সকালে সোহারের লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ মিজানের জন্ম ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার দাউতপুর গ্রামের রাস্তা ভিটি এলাকায়। তার পিতা আব্দুর রাজ্জাক এবং মাতা চাঁন বানু। স্ত্রী নুসরাত জাহানকে নিয়ে তার পরিবার গঠিত হলেও জীবনের বিভিন্ন সময়ে সন্তান হারানোর বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে ওমানে ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন মিজান। সোহার ও আশপাশের এলাকায় তিনি চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি সোহারের কুরসিয়াবী এলাকায় নতুন একটি আইসক্রিম শাখা চালু করেন, যার দায়িত্বে ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিল্লাল হোসেন মনির। এছাড়া অন্যান্য শাখাগুলোর দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন তার স্বজন ও সহকর্মীরা।

পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে না যাওয়ায় তিনি কিছু আর্থিক চাপ ও ঋণের বোঝা বহন করছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, গত ২৯ মে বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে তিনি বিল্লাল হোসেন মনিরকে ফোন করে বাজার করার কথা জানান। পরে তিনি বাজার করে নিজের গাড়িতে বাজারের ব্যাগ রাখেন। এরপর থেকে তাকে আর জীবিত অবস্থায় কেউ দেখেননি।

গত ১ জুন সকালে লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় তার স্বর্ণালি রঙের গাড়ির পেছনের আসনে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে রয়্যাল ওমান পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং মরদেহ হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

বর্তমানে মরদেহ মাস্কাটের একটি সামরিক হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

ঘটনার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর মেজর রাফিউল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে স্থানীয় প্রবাসী নেতারা সবাইকে গুজব ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, ওমানের প্রচলিত আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা উচিত নয়।

মোহাম্মদ মিজানের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

চাটগাঁ নিউজ/টমাস/এমকেএন

Scroll to Top