প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাল চট্টগ্রামে তারেক রহমানের প্রথম সফর

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠের জনসভায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এরও আগে ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মসূচিতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তারেক রহমান।

রবিবার (৯ আগস্ট) একদিনের সফরে কক্সবাজারের মহেশখালী এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এ সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কর্মতৎপরতা।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টার দিকে মহেশখালীতে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকায় যাবেন তিনি। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং ত্রাণ বিতরণ করবেন। একই অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সেখানে ইতোমধ্যে নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য বাছাই করা হয়েছে। বন্যায় যেসব পরিবারের ঘর পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রতীকীভাবে একজন স্বামীহারা নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

সফরের প্রস্তুতি দেখতে বাঁশখালীর অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। মঞ্চ, প্যান্ডেল ও হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা করে কর্মসূচিতে শৃঙ্খলার সঙ্গে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। পরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে এ সাক্ষাৎকে অরাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি পূরণ করতেই তাঁর এই সফর।

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী জানান, সাক্ষাতে ফটিকছড়ির উন্নয়ন ও জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন, চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট হয়ে রামগড় পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় প্যান্ডেল নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। তাঁর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য ফটিকছড়ির পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাডও প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি।

পরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থানের পর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ উপলক্ষে কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য ও জরুরি চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য এক লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে হাটহাজারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়েও বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি চলছে। আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ নেতা-কর্মীর উপস্থিতি থাকতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানান, তিন সাংগঠনিক ইউনিটের বিএনপি এবং ১১টি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা সভায় থাকবেন। নগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

দলীয় নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগটি সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সভায় চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি, স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা এবং দলীয় কার্যক্রম নিয়ে নেতারা সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন

Scroll to Top