প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে খুলল বুঝিখাল বিদ্যালয়ের দুয়ার

মোহাম্মদ ইলিয়াছ: প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ করেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বাঁশ-কাঠের তৈরি স্কুল ভবন আর ছাত্রাবাসটি। থেমে গিয়েছিল আশপাশের চার পাড়ার অর্ধশতাধিক শিশুর লেখাপড়া। এক অনিশ্চিত অন্ধকারে ঢাকা পড়েছিল দুর্গম পাহাড়ের খুদে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। তবে এবার দূর হলো সেই অনিশ্চয়তা।

প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে ১০ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে পুনর্নির্মিত হয়েছে ‘বুঝিখাল ম্রো প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাস’।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ’র হাত ধরে নতুন ভবনের বর্ণিল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি শিশুদের জীবনে আবারও ফিরল শিক্ষার আলো।

জানা গেছে, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি। ২০২২-২৩ সালে স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে ম্রো ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু পড়াশোনা করত। তবে গত ১২ থেকে ১৪ জুলাইয়ের ভয়াবহ বৃষ্টিপাতে স্কুল ভবন ও ছাত্রাবাস সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান, চরম বিপাকে পড়েন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

যেভাবে এলো পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ

বিদ্যালয়টির করুণ দশা দেখে স্থির থাকতে পারেননি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও শিক্ষক নুরুল ছাফা ভূঁইয়া বাবু। তিনি বিষয়টি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহর নজরে আনেন। খবর পেয়েই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌসকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দ্রুত গতিতে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম।

নতুন ভবনে নতুন স্বপ্ন

১০ লাখ টাকার বেশি খরচ করে নির্মিত বিদ্যালয় ও ছাত্রাবাসের নতুন দুই ভবনে তিনটি করে মোট ছয়টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। উদ্বোধন শেষে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন শিক্ষা উপকরণ।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘পাহাড়ের গহিনে শিশুদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে এই বিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। শুধু পরিকাঠামো নয়, পড়াশোনার মান বজায় রাখা এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়টিতেও আমরা নজর রাখব।’

এর আগে সোমবার আলীকদম সফরে এসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। তিনি সেখানে শিশুদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

পাহাড়ে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা

স্কুলটি নতুন রূপ পাওয়ায় আনন্দের বন্যা বইছে স্থানীয় পাড়াগুলোতে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা ও স্থানীয় কারবারি দমলয় মুরুং সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, ‘আশেপাশে আর কোনো স্কুল নেই। ঘরটি ভেঙে যাওয়ার পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। আজ আবার আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন ডানা মেলল।’

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সজীব কান্তি রৌদ্র এবং আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম জানান, অতিবৃষ্টিতে বিদ্যালয়টির ক্ষতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে।

এদিকে, দুর্গম এলাকার এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সাবেক আলীকদম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টু।

তিনি জানান, শিক্ষকের সংখ্যা বাড়াতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top