রাষ্ট্রপতির যানবাহন ব্যতীত সকল যানবাহনকে টোল পরিশোধ করতে হবে
শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী যানবাহন ব্যতীত অন্য সকল যানবাহনকে নিয়মানুযায়ী টোল পরিশোধ করতে হবে। এই সংক্রান্ত একটি চিঠি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) উক্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে — শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কে (ওয়াসা মোড় হতে সীবিচ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী যানবাহন ব্যতীত সকল যানবাহনকে নিয়মানুযায়ী টোল পরিশোধ করতে হবে। দাপ্তরিক কার্যক্রমে নিয়োজিত সরকারি যানবাহন তাৎক্ষণিকভাবে টোল পরিশোধ না করলে পরবর্তীতে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃক পরিশোধ করতে হবে।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। টোল আদায় ও উড়াল সড়কটির সার্বিক বিষয় পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) মোহাম্মদ জামিলুর রহমান। সভাটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার, প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় মোট ৪৩১৪৮৫.৫১ লক্ষ টাকা (২য় সংশোধিত)। তন্মধ্যে জিওবি অনুদান ৩৭৭৪৮৯.৫২ লক্ষ টাকা, জিওবি ঋণ ৪৯১৯৭.৪০ লক্ষ টাকা এবং সিডিএ নিজস্ব অর্থায়ন ৪৭৯৮.৫৯ লক্ষ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই-২০১৭ হতে ডিসেম্বর-২০২৬ পর্যন্ত। উক্ত প্রকল্পের আওতায় প্রধান ফ্লাইওভারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। সাতটি র‍্যাম্পের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ডিসেম্বর এর মধ্যে টোল বুথ স্থাপনাসহ পুরো প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ জামিলুর রহমান জানান, বর্তমানে গড়ে ৬.৬৪% গাড়ি বিনা টোলে পারাপার হচ্ছে। যার মধ্যে প্রধানত পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের যানবাহন অন্তর্ভুক্ত। এক্সপ্রেসওয়ে চালু রাখার পাশাপাশি গৃহীত ঋণ ৪৯১৯৭.৪০ লক্ষ টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় অনিয়মিত বা অনিয়ন্ত্রিত টোল মওকুফ প্রকল্পের আয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন চাটগাঁ নিউজকে জানান, উড়াল সেতু নির্মাণে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা ঋণ আছে। টোল আদায়ের টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে টোল মওকুফ করা হলে তা রেফারেন্স হিসেবে বাকিরাও ব্যবহার করবে। ফলে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তিনি উদাহরণ টেনে আরোও বলেন, দেশের যেকোনো সেতু ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টোল পরিশোধ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সকল যানবাহনের জন্য টোল পরিশোধিত হয়। সেক্ষেত্রে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য উড়াল সেতুর টোল মওকুফের সুযোগ নেই।

চাটগাঁ নিউজ/জেএইচ

Scroll to Top