প্যাসিফিক জিন্স বন্ধ নয়, ভেঙে ফেলা হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) অবস্থিত প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের (ইউনিট-১) প্রায় ৩৪ বছর পুরোনো একটি কারখানা ভবন ভেঙে সেখানে নতুন অত্যাধুনিক শিল্পকারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কারখানাটি চালু হলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে নতুন কারখানায় বর্তমান শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিলের (আরএসসি) বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়নে (ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট) ভবনটিতে সম্ভাব্য কাঠামোগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি শনাক্ত হয়। শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ওই ভবনে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ এবং ভবনটি ভেঙে ফেলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত শুধু প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের ইউনিট-১-এর নির্দিষ্ট ওই ভবনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গ্রুপের অন্যান্য উৎপাদন ইউনিট ও কারখানায় স্বাভাবিক নিয়মে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের পর গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা ও প্রাপ্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে প্রদেয় বেতন, ওভারটাইম, অন্যান্য ভাতাদি, অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির অর্থ, নোটিশ পে, সার্ভিস বেনিফিট এবং মুনাফাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রত্যেক শ্রমিকের চূড়ান্ত পাওনা চাকরি অবসানের দিনই তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাওনার বিস্তারিত বিবরণসংবলিত পে-স্লিপ, অভিজ্ঞতার সনদ ও প্রশংসাপত্রও দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভবিষ্যৎ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে একই স্থানে পরিবেশবান্ধব, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুতলবিশিষ্ট নতুন কারখানা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে প্যাসিফিক জিন্সের। তবে এ কার্যক্রম আরএসসির নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, নতুন কারখানা চালু হলে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। এতে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন কারখানায় পুরোনো শ্রমিকদের পুনরায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়িক অংশীদার, ক্রেতা ও অন্যান্য সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা কাজ করবে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top