চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : কক্সবাজারের পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের আবদুল হামিদ সিকদারপাড়ায় গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা পরিবারের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও ১৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
রোববার (২৬ জুলাই) গভীর রাতে সৌদি প্রবাসী জমির আলম ও তার ছোট ভাই মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) রেজাউল করিমের বসতবাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রেজাউল করিম বলেন, রাতে বাড়ির সামনে রাখা মোটরসাইকেল আছে কিনা দেখার জন্য বের হওয়ার পর পাশের একটি দোকানে কয়েকজন সঙ্গে বসছিলাম। রাত ৩টার দিকে সাদা রঙের একটি হায়েস গাড়ি দ্রুত গতিতে সড়ক দিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পরে ৩-৪ জন লোক এসে আমাদের পরিচয় জানতে চান। কিছু বুঝে না উঠতেই তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আমরা তিনজনকে পাশের একটি ফার্নিচারের দোকানে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন।
পরে তারা আমাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ৭-৮ জন সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যরা আমার বাড়িতে ঢুকে বাড়ির সব সদস্যকে একটি কক্ষে বেঁধে রাখেন এবং আওয়াজ করলে গুলি করে মারার হুমকি দেন। তখন তারা বাড়িতে ইচ্ছেমত তাণ্ডব চালান। ডাকাত দলের সদস্যরা আমার কক্ষে ঢুকে নগদ সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার পরে বড় ভাই জমির আলমের কক্ষে ঢুকে আরও আড়াই লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যান।
রেজাউল করিমের স্ত্রী তাসফিয়া সোলতানা কাজল বলেন, স্বামী মোটরসাইকেল দেখতে যাওয়ার কথা বলে রাতে বের হন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে অস্ত্রধারী ৭-৮ জন মুখোশপরা ব্যক্তি ছিল। তারা সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চালায়। ডাকাতরা যাওয়ার সময় সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে গেছে।
সৌদি প্রবাসী জমির আলমের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমাদের প্রাণনাশের ভয় দেখায়। গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নেয়। আলমারি ও ড্রয়ারের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।
স্থানীয় বাসিন্দা তামিম বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এক বছর আগেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একদল অস্ত্রধারী পাশের দুটি বাড়ি থেকে ৬টি গরু লুট করে নিয়ে যায়। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবি করছি।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এসএ





