চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: পিরিয়ড বা মাসিক নারীর জীবনের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও এটি নিয়ে সমাজে এখনো রয়েছে নানা ভুল ধারণা, সংকোচ ও অযাচিত বিধিনিষেধ। এসব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক সময় মেয়েদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমন বাস্তবতাকে সামনে রেখে পিরিয়ড নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে নতুন প্রচারণা শুরু করেছে এসএমসি জয়া স্যানিটারি ন্যাপকিন।
দুটি টিজারের পর প্রকাশিত নতুন টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে পিরিয়ডকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, নেতিবাচক মন্তব্য ও নীরবতার সংস্কৃতিকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রচারণায় দেখানো হয়েছে, শুরুতে সাধারণ মনে হওয়া কিছু কথা ও মন্তব্য কীভাবে ধীরে ধীরে মেয়েদের চারপাশে অদৃশ্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।
নতুন টিভিসিতে সেই সামাজিক বাস্তবতাকে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পিরিয়ডের সময় মেয়েদের চলাফেরা, দৈনন্দিন কাজ কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন নিয়ে তৈরি করা নানা বিধিনিষেধ এবং সামাজিক চাপের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে এতে। পাশাপাশি এসব প্রচলিত ধারণা থেকে বেরিয়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রচারণাটির মূল বার্তা হলো—পিরিয়ড কোনো লজ্জা, ভয় কিংবা গোপন করার বিষয় নয়। বরং এ বিষয়ে প্রয়োজন সঠিক তথ্য, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং পরিবার ও সমাজে খোলামেলা আলোচনা।
এসএমসি জয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেয়েদের স্বাভাবিক জীবনকে সীমাবদ্ধ না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বেড়ে ওঠার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা প্রয়োজন।
পিরিয়ড নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক সংকোচ ও ভুল ধারণা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই এ প্রচারণা তৈরি করা হয়েছে। পণ্য প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এতে।
প্রচারণার মাধ্যমে দেওয়া বার্তাটি হলো—পিরিয়ড স্বাভাবিক, তাই এটি নিয়ে লজ্জা বা সংকোচ নয়; বরং ভুল ধারণার বেড়াজাল ভেঙে প্রতিটি মেয়ের স্বস্তি, স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অধিকার রয়েছে।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





