পাল্টে যাচ্ছে পারকির চেহারা, জুনে চালু হচ্ছে ‘পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স’

চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আবাসনের অভাব ও নানা সংকট কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের অধীনে প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য আধুনিক ‘পারকি পর্যটন কমপ্লেক্স’টির নির্মাণকাজ শেষ করে আসন্ন জুনে উদ্বোধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকতে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমির ওপর আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে কয়েক দফা মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭২ কোটি টাকা। সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের প্রকল্প পরিচালক মাজেদুর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। আগামী জুনের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় কটেজ, বহুতল ভবন, প্রবেশদ্বার, সীমানা প্রাচীর ও পার্কিং জোনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পারকি সৈকতের পুরোনো চেহারা সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে কমপ্লেক্সে যুক্ত হচ্ছে বিশ্বমানের নানা সুযোগ-সুবিধা।

এই প্রকল্পে থাকছে ১০টি সিঙ্গেল কটেজ, চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ, তিনতলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন, রেস্তোরাঁ, সার্ভিস ব্লক, সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তাকক্ষ, পিকনিক শেড, শিশুদের খেলাধুলার স্থান ও একটি হ্রদ।

তবে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পের সীমানা প্রাচীরের কিছু অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার অসীম শীল বলেন, ত্রুটিগুলো পরে সংস্কার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে কাজ শেষ হতে সময় বেশি লেগেছে।

প্রকল্পটি চালুর পর পারকি সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, পর্যটন কমপ্লেক্সটি চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তারা বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল চালু হওয়ার ফলে চট্টগ্রাম শহর থেকে পারকি সৈকতে যাতায়াত এখন অত্যন্ত সহজ ও দ্রুত। আনোয়ারা প্রান্তে টানেলের মুখ থেকে সৈকতের দূরত্ব মাত্র ৪ থেকে ৮ কিলোমিটার। ফলে পর্যটকরা মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই চট্টগ্রাম শহর থেকে পৌঁছে যেতে পারবেন পারকির এই নতুন বিনোদন কেন্দ্রে।

চাটগাঁ নিউজ/এসএ

Scroll to Top