চাটগাঁ নিউজ ডেস্ক: আজ ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও প্রবল গণপ্রতিরোধের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
জুলাইজুড়ে সংঘাত, প্রাণহানি ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে আন্দোলন আগস্টে গড়ালেও আন্দোলনকারীদের ভাষায় তখনও ‘জুলাই শেষ হয়নি’। তারা প্রতীকীভাবে ৩১ জুলাইয়ের পর ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ এবং শেষ পর্যন্ত ‘৩৬ জুলাই’ বলে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ৫ আগস্টকে তারা বিজয়ের দিন হিসেবে দেখেন।
সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে হাজারো মানুষ জড়ো হন। উত্তরার প্রবেশমুখে অবস্থানরত জনতার মধ্যে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় স্বতঃস্ফূর্ত উল্লাস। গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশের সরকারি স্থাপনাগুলোতে মানুষের ঢল নামে। একইভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে বিজয় উদযাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব পৃথক বাণী দিয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন দেশে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরকার দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামে দিনব্যাপী কর্মসূচি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সকাল ১০টায় নিউ মার্কেট এলাকার রেলওয়ে স্টেশন কম্পাউন্ডে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হবে। এছাড়া আলোচনা সভা, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আলোকসজ্জার পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জাতীয় পতাকা ও ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
এদিকে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে বিকেলে লালদীঘি ময়দান সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ শেষে মিছিলটি নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ, গান ও আবৃত্তিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।
চাটগাঁ নিউজ/এমকেএন





