আনোয়ারা প্রতিনিধি: সকালের লবণভেজা বাতাস, নীল সমুদ্রের ঢেউ আর নির্জনতার অপূর্ব অনুভূতি—চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকত–সংলগ্ন পরুয়াপাড়া ফুলতলী সৈকত সম্প্রতি পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই এখানে তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সী মানুষের ভিড় বাড়ছে। নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য মিলে এটি এখন একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পারকি সৈকতের পাশের ফুলতলী এলাকায় মানুষের ভিড় ক্রমেই বাড়ে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশ ও সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ পর্যটকদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
তবে পর্যটক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সৈকতে বেড়েছে স্পিড বোট, বিচ ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, জোরপূর্বক যাত্রী পরিবহন, লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই স্পিড বোট চালানো এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন পর্যটকরা।
ফুলতলী সৈকতে আসা এক পর্যটক বলেন, পারকি সৈকত থেকে স্পিড বোটে করে ফুলতলী এলাকায় আসার সময় কোনো লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি। সৈকতে নেমে দেখা যায় কাদামাটির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, আর বিচে ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের কারণে হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতে যাতায়াতের জন্য নির্মিত ব্রিজ ব্যবহার করে অবৈধভাবে স্পিড বোটের আড়ালে মাদক পাচারের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি বখাটেদের উৎপাতও বাড়ছে, যা পর্যটকদের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, সৈকতে ট্যুরিস্ট পুলিশের স্থায়ী কোনো চৌকি না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত টহল না থাকায় অনেক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাইক ভাড়ায় প্রতারণার শিকার এক পর্যটক জানান, এক ঘণ্টার জন্য ৩০০ টাকায় বাইক ভাড়া নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তা ফেরত নিয়ে ৭০০ টাকা দাবি করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, নিবন্ধনবিহীন স্পিড বোটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। বিচে বেপরোয়া ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে তারা কিছুই করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবরার সালেহ বলেন, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে ফুলতলী সৈকত পর্যটক হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাটগাঁ নিউজ/সাজ্জাদ/এমকেএন





